
August 12, 2026
Policy Brief

Rooftop Solar | Powering a Way Out of the Energy Crisis (Bangla)
দফায় দফায় দাম বাড়িয়েও বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে। আবার চড়া দাম দিয়েও চাহিদার সময় পুরোপুরি বিদ্যুৎ পায় না গ্রাহক। বিদ্যুৎ খাতে চলমান এ সংকটের সহজ সমাধান হতে পারে সৌরবিদ্যুৎ। শুধু ভবনের অব্যবহৃত ছাদ ব্যবহার করেই কম খরচে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব। ছাদে ছাদে গড়ে উঠতে পারে নিজস্ব ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র’।
বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে যে বিল হয়, তার চেয়ে কম খরচে পাওয়া যায় ছাদবিদ্যুৎ থেকে। ইতিমধ্যে কয়েকটি বড় শিল্পকারখানা চাহিদার বড় অংশ পাচ্ছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে। একের পর এক শিল্পকারখানা এখন সেদিকে ঝুঁকছে।
এক দশক ধরেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়ার কথা বলা হলেও উৎপাদন তেমন বাড়েনি। মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে করার কথা ছিল ২০২১ সালে। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় ২০২৫ সালে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এটি এখনো ৫ শতাংশের নিচে। ২০১২-১৩ সালেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে এবার পরিস্থিতি বদলাতে পারে। এ ক্ষেত্রে ছাদ হতে পারে বড় উৎস।
ঢাকা ও আশপাশের ছাদ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি সমীক্ষা চালিয়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নিও বিভি। এতে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকাকে কেন্দ্র করে ঢাকা সেন্টার অঞ্চলে ৪ লাখ ২৫ হাজার ২৪৪ এবং বৃহত্তর ঢাকা এলাকায় ২ লাখ ১৪ হাজার ২৪২টি আবাসিক, বড় ও ছোট বাণিজ্যিক, শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবন চিহ্নিত করা হয়। এসব ছাদ ব্যবহার করে ১০ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এসব ভবনের অর্ধেকের সক্ষমতা ধরলেও ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।
২০২৫ সালের ২৬ জুন ‘ন্যাশনাল রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সব সরকারি ভবন, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের নির্দেশনা দেন। এরপর গত বছরের অক্টোবরে তিন মন্ত্রণালয়ের ছয়টি বিভাগের সঙ্গে আলাদা করে সমঝোতা স্মারকে সই করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ। ছয়টি বিভাগ হলো মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ। ৪৬ হাজার ৮৫৪টি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৪৫৪ দশমিক ৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও তেমন সাড়া দেখা যায়নি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বিবেচনায় নিয়েই সরকার সব করেছে। নীতিমালায় সেটি পরিষ্কার। এ ছাড়া সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপকরণ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পরে কেউ কেউ আরও সুবিধা দাবি করেছে। তবে ৯০ শতাংশ অংশীজনের চাহিদা পূরণ হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, ঢাকা নগরে ১৬৫টি ছাদে সাড়ে ১২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ক্ষমতা বসানোর কাজ চলছে। তবে আপাতত দরপত্র আহ্বান বন্ধ আছে। সরকার এটি নিয়ে একটি কৌশলপত্র তৈরি করছে। এরপর আবার দরপত্র আহ্বান করা হবে। দরপত্রে দামের সীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন করে ডাকা দরপত্রে আর দামের সীমা থাকবে না। নীতিগত যত বাধা ছিল, সবই দূর করা হয়েছে। বাজেটে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করায় খরচ আরও কমে যাবে। তাই বিনিয়োগে উৎসাহ বাড়বে, প্রতিযোগিতায় দামও কমে আসবে। সরকার বিনিয়োগ না করে ওপেক্স মডেলে কাজ করতে চায়। এ ক্ষেত্রে ঠিকাদার নিজে বিনিয়োগ করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বানিয়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বিবেচনায় নিয়েই সরকার সব করেছে। নীতিমালায় সেটি পরিষ্কার। এ ছাড়া সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপকরণ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পরে কেউ কেউ আরও সুবিধা দাবি করেছে। তবে ৯০ শতাংশ অংশীজনের চাহিদা পূরণ হয়েছে। এখন সবাই কাজ শুরু করুক। এরপর যদি আরও কিছু করার প্রয়োজন হয়, বাস্তবিকভাবে চিন্তা করে সরকার বিবেচনায় নেবে।